আওয়ামী লীগের জন্ম এদেশের মাটি ও মানুষ থেকে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন আওয়ামী লীগের জন্ম ক্ষমতা দখলকারী কোন মিলিটারী ডিক্টেটরের পকেট থেকে হয়নি। আওয়ামী লীগের জন্ম এদেশের মাটি ও মানুষ থেকে। কাজেই আমাদের শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইয়াহিয়া-আইয়ুব খান-জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। আগামীতেও পারবে না।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারত প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নকর্তাকে আরেকটি ওয়ান ইলেভেন আসা নিয়ে চিন্তা না করার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ঘাবড়ানোর কিছু নেই, এটুকু বলতে পারি। ঘাবড়াবেন না, আমরা আছি না? কোনো চিন্তা নেই। বিএনপির চরম দু:শাসন, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও ভুয়া ভোটার লিস্ট করে নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার খায়েশের কারণে ওয়ান ইলেভেন এসেছিল অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের দু:শাসন, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদের কারণেই ওয়ান ইলেভেন এসেছিল। আর ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের বিজয় অনিবার্য জেনে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে তারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছিল। একটা সিটে দুই/তিনটা করে নমিনেশন দেয়। একটা আসে লন্ডন থেকে। একটা যায় পুরানা পল্টন অফিস থেকে। আরেকটা গুলশান অফিস থেকে। সকালে একটা, বিকেলে একটা, দুপুরে একটা। দলের যোগ্য প্রার্থীদের কাছে লন্ডন থেকে ম্যাসেজ আসে মোটা অংকের টাকা না দিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না। ওইভাবে যারা নির্বাচন করতে যায় তারা আর কতক্ষণ নির্বাচনে টিকে থাকে। মাঝপথে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। সরে গিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে এবং তারা বিভিন্নভাবে প্রচার-অপ্রচার চালিয়ে সেটা তারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পেরেছে-এটা বাস্তব। কিন্তু জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস এখনো আওয়ামী লীগের ওপর আছে।
সংসদ নেতা বলেন, ২০১৪-১৫ সালে বিএনপি আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুন, মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। সরকারি ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি নষ্ট করেছে। এমন কোন অপকর্ম নেই যা করে তখন সরকার হঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এতে জনগণের সায় তারা পায়নি। যারা নির্বাচনকে কলুষিত করেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে, মানুষের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে, যারা মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে তারাই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আরও পড়ুনঃ এপ্রিলে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা





